বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন অক্টোবরে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ড স্টিল) হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ সময় বিশ্বব্যাপী ধাতবপণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩৩ লাখ টন। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ওয়ার্ল্ড স্টিল তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ৭০টি দেশের ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। ধাতবপণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশগুলোর অবদান ৯৮ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অক্টোবরে বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন কমার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চীনের চাহিদা হ্রাস। ওয়ার্ল্ড স্টিল জানায়, রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতে মন্দার প্রভাবে দেশটিতে গত মাসে ধাতবপণ্যটির উৎপাদন কমেছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ টন।
ভারতে অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে ইস্পাতের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। এছাড়া অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে শক্তিশালী চাহিদার প্রভাবে দেশটির ইস্পাত কোম্পানিগুলো উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী ভারতে গত মাসে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টনে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে এ সময় ইস্পাত উৎপাদন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ টনে পৌঁছেছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, অক্টোবরে জাপান মোট ৬৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম। রাশিয়ায় ধাতবপণ্যটির উৎপাদন ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫৩ লাখ টনে নেমেছে।
অঞ্চল ভিত্তিতে এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলোয় অক্টোবরে ইস্পাত উৎপাদন কমেছে সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে গত মাসে ধাতবপণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ২৪ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টনে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। তবে এ সময় ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ টনে।
মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। মোট ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ টনে। রাশিয়া ও অন্যান্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশে গত মাসে ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৪ লাখ টন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম। এ সময় আফ্রিকার দেশগুলোয় উৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে।